ঢাকা রবিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আগামী নিউজ
২৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১৮:৪৪

ওয়াইসিবির উদ্যোগে ‘নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০১৮’ অনুষ্ঠিত

tesst

রাজধানী ফার্মগেটের খামারবাড়িতে ডিপার্টমেন্ট অফ এগরিকালচারাল এক্সটেনশনের এ কে এম গিয়াসুদ্দীন মিলকি অডিটোরিয়ামে ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের উদ্যোগে নিউট্রিশন ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মত ‘নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আরিফিন রহমান হিমেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০১৮ এর এডভাইসর ও শমরিতা ডায়েট এন্ড অবেসিটি সেন্টারের চিফ নিউট্রিশনিস্ট এস এন শম্পা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. রুহুল আমিন তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে ছিলেন বারডেম এর নিউট্রিশন ডিপার্টমেন্ট হেড শামসুন্নাহার মহুয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আক্তারুন্নাহার আলো , শহিদ উদ্দিন আকবার , ডঃ জাহিদুর রশিদ সুমন, মো মনিরুজ্জামান সহ আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দ। সারাদিন ব্যাপী এ আয়োজনের বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণকারী দের নানা প্রশ্নের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ডঃ কামরুন নাহার,প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার, বারডেম, এপোলো হাসপাতালের ডায়টেটিক্স বিভাগের প্রধাণ তামান্না চৌধুরী, ইউনাইটেড হাসপাতালের তাসনিম চৌধুরী সহ রাজধানীর নামকরা নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটেশিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইউনিসেফ, এফ ও এ, নেসলে বাংলাদেশ, বি আই আই ডি থেকে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের সাথে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এস এন শম্পা বলেন, ‘নিউট্রিশনে ক্যারিয়ার গঠন বর্তমানে খুব সময়োপযোগী একটি বিষয়। এখন নিউট্রিশন বা পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার জন্য দুটি ক্ষেত্রে উম্মুক্ত। একটি হচ্ছে চাকরির ক্ষেত্র, আর অন্যটি আত্ম-কর্মসংস্থান। বর্তমানে পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে এবং নিউট্রিশন ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ সুযোগ রয়েছে এসব ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করার’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বারডেমের সাবেক চিফ ডায়েটেশিয়ান ও নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান আখতারুন নাহার আলো তার বক্তব্যে বলেন, ‘নিউট্রিশনের শিক্ষার্থীরা শুধু পুষ্টি বিষয়ক জ্ঞানই রাখবে না, তাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করতে হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘তারা শুধু হাসপাতালে কিবা অন্য কোথাও চাকরি করবে না, বরং তাদের দায়িত্ব আরো বেশি। মানুষকে পুষ্টি নিয়ে সচেতন করার গুরুদায়িত্বও তাদের নিতে হবে। যে যেই ক্ষেত্রেই কাজ করুক নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সকলকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে’।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘নিউট্রিশনের শিক্ষার্থীদের মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। সরকার খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন নিয়ে অতীত থেকেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে করে আসছে এবং সেগুলো জেলা পর্যায়ে ও জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করে আসছে। এসডিজিতেও পুষ্টিবিজ্ঞান যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে এবং আমাদের দেশেও এসডিজির টার্গেট পুরনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বাংলাদেশের সকল সেক্টরে, সকল স্থানে, কোথায় কতজন নিউট্রিশনিস্ট প্রয়োজন তার উপর একটি জরিপ করার মাধ্যমে চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় স্থানসমুহে নিউট্রিশনিস্ট নিয়োগ দিয়ে সমগ্র দেশব্যাপী পুষ্টিহীনতার দূরীকরণে ইতোমধ্যেই সরকারি পদক্ষেপ দৃষ্টিগোচর হয়েছে’। এ ছাড়াও তিনি আইসিটিকেও নিউট্রিশনের সাথে সংযুক্ত করার ব্যাপারে গুরাত্বারপ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে বারডেমের নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ও প্রধান নিউট্রিশন অফিসার শামসুন নাহা মহুয়া বলেন। ‘বর্তমানে শুধু ঢাকাতে ১৮০-২০০ জন নিউট্রিশনিস্ট আছেন, যার সংখ্যা পূর্বে ছিল ৮০-৮৫ জন। শুধু তাই নয়, ঢাকার বাইরে এর সংখ্যা প্রায় ৪৫ জন। সুতরাং নিউট্রিশনে চাকরির সুযোগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়েও নিউট্রিশনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পদে চাকরির সিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া এসডিজির যে টার্গেট বা লক্ষ্যগুলো আছে তার মধ্যে প্রথম সাতটিই নিউট্রিশনের সাথে সম্পর্কিত’।

নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্টে নেটওয়ার্কিং সেশন, সরাসরি নিউট্রিশনিস্টদের সাথে প্রশ্নোত্তর সেশন, নিউট্রিশনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠন, নিউট্রিশনে ক্যারিয়ার গঠনের মূল মন্ত্র ইত্যাদি বিষয়াদির উপরে সেশনভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সময়ে প্রফেশনাল ক্যারিয়ার গঠনের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মুলত পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর কারণেই বর্তমানে এর কদর অনেক বেড়েছে। বর্তমানে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ এখন অধিক স্বাস্থ্যসচেতন হবার পাশাপাশি ডায়েটিং নিয়েও ব্যাপক সতর্ক। আমাদের দেশে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনো করেও তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে সন্দিহান থাকেন। তারা খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করবার যে ক্ষেত্রগুলো আছে সে ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে পুষ্টিসচেতনতা নিয়ে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগকে বিনষ্ট করছে। মূলত তাদের জন্যই এই ক্যারিয়ার ফেস্ট আয়োজন করেছে ইয়ুথ ক্লাব অফ বাংলাদেশ।

ফেস্টের সাপোর্টেট পার্টনার হিসেবে ছিল নিউ জিল্যান্ড ডেইরি। ইভেন্ট পার্টনার ইয়োথ ভিলেজ ও সিমুড ইভেন্টস। ফেস্টের স্ট্রেটেজিক পার্টনার বি আই আই ডি। ক্যারিয়ার পার্টনার স্কিল জবস ও ক্লাব পার্টনার নিউট্রিশন ক্লাব।ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল মার্কস।

বিষয়সমূহঃ