ঢাকা সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আগামী নিউজ
২৮ নভেম্বর, ২০১৭ | ০৮:১৩

গোলাপের রাজ্য ও তুরাগ নদীতে একটি দিন

tesst

গত শুক্রবার ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের একটি দল ঘুরে এল ঢাকার অদূরে তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রাম থেকে। কম সময়ে কাছে কোথাও একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন এমন অনেক জায়গাই আছে ঢাকার আশে পাশে। তারমধ্যে খুব সুন্দর আর মন ভালো করে দেয়ার মতো একটি জায়গা হলো গোলাপ গ্রাম। বিশ্বাস করুন, এই গ্রাম আপনার যান্ত্রিক জীবনের অনেকটা ক্লান্তিই দূর করে দিবে।

তাহলে প্রথমেই চলে আসি যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে। গোলাপ গ্রামে দুভাবে যায়। একটা স্থলপথ আর একটা নদীপথ। কিন্তু আমরা নদীপথকেই বেছে নিলাম। ঢাকা শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে মিরপুর-১ কিংবা মাজার রোড নেমে রিকশা ঠিক করে দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট যাবেন (এটা মিরপুর এর দিয়াবাড়ি, উত্তরার না)। ভাড়া নেবে ৩০-৩৫ টাকার মত। বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পর পর ইঞ্জিন চালিত নৌকা ছাড়ে। সাহদুল্লাহপুর যেতে যেতে ৪৫ মিনিট-১ ঘণ্টা লাগবে। সেখানে একেক জনের জন্য ২০ টাকা করে ভাড়া নিবে। দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটে যাওয়ার সময়ে চারপাশের সৌন্দর্যটা মনোমুগ্ধকর ।

সাহদুল্লাপুর ঘাটে পৌঁছানোর পর ঘাটের কাছেই আমরা বসে চা-নাস্তা সেরে নিলাম। তখন বাজে মাত্র সকাল সাড়ে দশটা। এরপর আমরা গোলাপ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । যতটা ভেবেছিলাম তার থেকেও বেশি সুন্দর এই গ্রাম। পুরোটাই যেন গোলাপের বাগান! যতদূর যাবেন গোলাপে ঢাকা চারপাশ আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। একারনেই পুরো গ্রামকে বলা হয় গোলাপ গ্রাম। উঁচু জমিগুলো ছেয়ে আছে গোলাপে। সেখানকার এক স্থানীয় চাষী বললেন তারা শুধু লাল গোলাপ না সাদা গোলাপ, জার্বারা ও গ্ল্যাডিওলাস ফুলেরও চারা লাগান। আর শীতকালে চারপাশটা দেখতে আরও সুন্দর লাগে। এক একটা ফুল গাছ থেকে প্রায় ১০-১২বছর ফুল পাওয়া যায়।

আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন অনেক রোদ ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই রোদ নেমে গিয়ে ঠান্ডা হাওয়া বইতে লাগল। তখন সত্যি অনেক ভালো লাগছিল। গ্রামের সবখানে শুধু ফুলের বাগান।মন ভাল করার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা আর হতে পারে না। সারাদিন ফুলের রাজ্যে কাটিয়ে, চাইলে ফুল কিনে আনতে পারবেন, খুব সস্তা দাম। ৫০ টা গোলাপ এর দাম মাত্র ২০০ টাকা।

গোলাপ গ্রাম ঘুরার পর আমরা বট তলায় ফিরেই দুপুরের খাবার সেরে নিয়েছিলাম। আমরা সংখ্যায় অনেক ছিলাম। তাই আগে থেকেই হোটেলের লোকদের বলে রেখেছিলাম। আপনারাও যদি সংখ্যায় অনেক হয়ে থাকেন তো আপনাদেরকেও ওখানকার হোটেলের লোকদের বলে রাখতে হবে। দুপুরের খাবার ছিল খুবই সাধারণ। কিন্তু সারাদিন গোলাপের রাজ্যে হেটে আসার পর আপনার কাছে ওই সাধারন খাবারকেই অমৃত বলে মনে হবে। খাবারের দামও বেশি না। জনপ্রতি ৭০-৮০ টাকা মাত্র।

গোলাপ গ্রাম ঘুরার পর আমরা তুরাগ নদীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। দেড় ঘন্টা জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করেছিলাম। ঘন্টায় ওরা ভাড়া নেয় ৮০০-১০০০ টাকা। সারাটা বিকেল নৌকাতে গান বাজনা, চারপাশের কাশবন আর ছোট ছোট ছেলেদের নৌকাবাইচ দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল খবরই ছিলনা। যখন মিরপুর বটতলার ঘাটে এসে পৌছালাম তখন ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬ টা ছুই ছুই!

যাই হোক কেউ যদি স্থলপথে যেতে চান তো সহজ রাস্তা হল উত্তরা দিয়া বাড়ি দিয়ে সোজা গিয়ে আশুলিয়া বেড়িবাধ হয়ে একটু সামনে গেলেই বিরুলিয়া ব্রিজ , ওইদিকে একটা ব্রিজই আছে, সেটা বিরুলিয়া ব্রিজ। যারা মিরপুর থেকে আসতে চান তারা মিরপুর-১ এ নেমে কিছু লেগুনা পাবেন, ওইগুলায় উঠলে সোজা বিরুলুয়া ব্রিজ নামতে পারবেন, তারপর ব্রিজ এর গোড়ায় অনেক লেগুনা থাকে, সেগুলো আপনাকে আকরাইন বাজার নিয়ে যাবে। ব্রিজ পার হলেই আকরাইন বাজার, তারপর ওইখান থেকেই শুরু হয় সাদুল্লাহপুর গ্রাম। উত্তরা থেকে যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে এক ঘন্টা লাগবে। বলা বাহুল্য নৌকা কিন্তু ৬ টার পর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কারন ৫.৩০ এ শেষ ট্রলার ছাড়বে। তাই ৪.৩০ এর ট্রলারে ফিরে আসাই ভালো। কারন শেষ ট্রলার এ ফিরতে রাত হয়ে যাবে। সাদুল্লাহ্পুর ঘাটের মিষ্টির দোকানে একটু ভিন্নস্বাদের কালোজাম বিক্রি করা হয়। খেয়ে আসতে ভুলবেননা কিন্তু।

বিষয়সমূহঃTags: