ঢাকা শনিবার | ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আগামী নিউজ
২৮ নভেম্বর, ২০১৭ | ০৫:২৩

সমুদ্রের নিরাপত্তায় ভারত মহাসাগরীয় ঐক্য চাই

tesst

একটি রাষ্ট্রের একার পক্ষে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। গতকাল সোমবার কক্সবাজারের ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের (আইওএনএস) মাল্টিল্যাটারাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সারসাইজের (ইমসারেক্স) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।

সুনামি ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ একাধিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমুদ্রে জীবনের নিরাপত্তা আঞ্চলিক দায়িত্ব হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, সমসাময়িক বাস্তবতায় ভারত মহাসাগরের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সমুদ্র সম্পদ অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এমন বাস্তবতা ও সম্ভাবনা সামনে রেখেই ‘ব্লু ইকোনমির’ ধারণা এসেছে। সরকার সমুদ্রবিষয়ক সেক্টরের উন্নয়নে বিশাল কর্মপন্থা গ্রহণ করেছে। সমুদ্রের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমুদ্রবিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে সক্রিয় আইওএনএসের সদস্য ২৩টি দেশের মধ্যে ১৫টি এবং সাতটি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র প্রথমবারের এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এসব দেশের যুদ্ধজাহাজগুলো মহড়ায় অংশ নিতে এখন গভীর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ইমসারেক্স-২০১৭-তে বাংলাদেশের ৩২টি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান এবং চীন, ভারত, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ অংশ নিচ্ছে। আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ মহড়া চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইওএনএসের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরারসহ বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরাও বিশেষ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এবারের মহড়ায় ভারতের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা, মিয়ানমারের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল টিং অং সাং, মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীপ্রধান এডমিরাল টিং সেরি আহমেদসহ আইওএনএসের সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারে এ মহড়ায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধজাহাজের ফ্লিট পরিদর্শন করেন। পরে তিনি মনোমুগ্ধকর বিচ কার্নিভালেরও উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সমুদ্রে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আস্থার প্রতীক। ব্লু ইকোনমির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা অতন্দ্র অভিভাবকের ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন রয়েছি। সাগরের সম্পদ উত্তোলন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের বিশাল সম্ভাবনা আছে। এটি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্র খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে। সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই সমৃদ্ধ এই মেরিটাইম ইকোনমির উন্নতি হতে পারে। সমুদ্র নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এ কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়নে ও সক্ষমতা বাড়াতে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

আইওএনএস-এর কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মতপার্থক্য দূর করতে মতামতের স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত আদান-প্রদানই একমাত্র পথ। স্থলসীমান্ত দেশগুলোকে আলাদা করে রাখলেও সাগরের বন্ধুত্বের বন্ধন আমাদের একসঙ্গে রাখতে পারে। আইওএনএস শুধু ভারত মহাসাগর অঞ্চলের নয়, বরং এশিয়া-প্যাসিফিক ও সংলগ্ন অঞ্চলের আশার প্রতীক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ। প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক যে কোনো সমস্যা দূর হতে পারে। এর বড় উদাহরণ প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করার বিষয়টি মীমাংসা হওয়া। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বেশ কিছু ফোরামে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। তারা বিশ্ব শান্তিরক্ষায় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মহড়ার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা করার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এই দিনটি আইওএনএস ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ দিন। কয়েক বছরে আইওএনএস-এর বেশ কিছু অর্জন রয়েছে।

ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমুদ্র এখন ‘ইকোনমিক হাইওয়ে’। সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।